Wednesday, July 17, 2013

ইউরোপে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের মাটির তৈরি টালি

 ইতালিতে মাটির টালি রপ্তানির চেষ্টা করেন রুহুল আমিন। সে জন্য তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উপযুক্ত মাটি খুঁজতে থাকেন। অবশেষে তিনি সেই কাঙ্ক্ষিত মাটির সন্ধান পান কলারোয়ার মুরারিকাটি-শ্রীপতিপুর এলাকায়। আর এতেই বদলে যায় কলারোয়ার মৃৎশিল্পীদের ভাগ্য। তাঁরা এখন আর হাঁড়ি-কলসী তৈরি করেন না। মাটির কারিগররা তৈরি করছেন বাহারি টালি। টালি রপ্তানি হচ্ছে ইতালি, বেলজিয়ামসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে। আয় হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা।
কলারোয়া থেকে ২০০৩ সালে ইতালিতে টালি রফতানি করেন কাররা এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্ত্বাধিকারী রুহুল আমিন। তিনিই প্রথম এ এলাকায় টালি রপ্তানির পথ দেখান। আর এ পথ ধরেই গত সাত বছরে এ এলাকায় স্থাপিত হয়েছে ২৫-৩০টির মতো টালি কারখানা। ইউরোপের দেশগুলোয় মাটির তৈরি টালির চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। দীর্ঘ এ সময়ে সাতক্ষীরার তৈরি প্রচুর টালি মংলা বন্দর দিয়ে বিদেশে রপ্তানি হয়েছে।  সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়ার মৃৎশিল্পীরা এখন আর হাঁড়ি-কলসী তৈরি করেন না। তবুও তাঁদের ঘরে নেই অভাব-অনটন। মুরারিকাটি-শ্রীপতিপুরের মাটির কারিগররা এখন তৈরি করেন বাহারি টালি। তাদের মেধা ও শ্রমে তৈরি করা টালি আজ ঠাঁই করে নিয়েছে দেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের তালিকায়। ইউরোপের কয়েকটি দেশে এখন রপ্তানি করা হচ্ছে এসব টালি। বাংলাদেশের কাদা মাটির তৈরি টালি শীতপ্রধান দেশে ভবনগুলোকে বরফ থেকে রক্ষায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া শোভাবর্ধনের কাজেও ব্যবহার হচ্ছে টালি। মুরারিকাটি-শ্রীপতিপুর পরিচিতি পেয়েছে 'ইতালি নগর' নামে।
 সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রত্যেকটি কারখানায় রপ্তানির জন্য মজুদ করা আছে বিপুল পরিমাণ বাহারি ডিজাইনের টালি। শত শত নরী-পুরুষ মাটি দিয়ে তৈরি করছেন টালি। প্রতি কারখানাতে ২৫-৩০ জন করে কারিগর ও শ্রমিক কাজ করেন। এসব মাটির কারিগররা কাজের দক্ষতার ভিত্তিতে ১০০ থেকে ২৫০ টাকা দৈনিক পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। এ টাকায় তাঁরা সংসারের প্রয়োজন মিটিয়েও কিছুটা সঞ্চয় করতে পারেন।  জানা যায়, শীতই টালি তৈরির মৌসুম। কলারোয়া ক্লে টাইলস, আরনো এক্সপোর্ট- ইমপোর্ট, জেএস ট্রেডার্স, ডি চন্দ্র পাল, নিকিতা ইন্টারন্যাশনাল ও কটো ইনোভেটর লিমিটেড গত কয়েক বছর ধরে টালি রপ্তানি করে আসছে। রেক্ট্যাঙ্গুলার, স্কয়ার, অ্যাঙ্গুলার, ব্রিকস শেপড_এসব বিভিন্ন আকার ও ডিজাইনের টালি তৈরি ও রপ্তানি করা হয়। ক্লে টাইলসের স্বত্বাধিকারী গোষ্ঠ চন্দ্র গোপাল বলেন, 'ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দিন-দিন আমাদের তৈরি করা টালির চাহিদা বাড়ছে। তবে টালি কারখানার সংখ্যা বেশি হওয়ায় স্টক থেকে যাচ্ছে। প্রতিবছর মংলা বন্দর দিয়ে কনটেইনারে ভর্তি করে ৭ থেকে ১০ মেট্রিকটন টালি ইটালি, জার্মানি ও বেলজিয়ামে রপ্তানি হচ্ছে। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী ট্রাফিক ম্যানেজার শেখ আবদুস সালাম জানান, গত ৭ বছরে মংলা বন্দর দিয়ে সাতক্ষীরার তৈরি কমপক্ষে ৬০ থেকে ৭০ হাজার মেট্রিক টন টালি বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। সরকার এ খাতকে উৎসাহী করতে রপ্তানি পণ্যের অর্থের ওপর শতকরা আড়াই পারসেন্ট রেয়াতি সুবিধা দিচ্ছে। এখান থেকে প্রতি বছর ৩০০-৪০০ কনটেইনার টালি ইতালি জার্মানি ও বেলজিয়াম যায়।
এম জিললুর রহমান, সাতক্ষীরা-সাতক্ষীরায় মাটির তৈরি টালি শুধু বিদেশীদের নজর কাড়েনি, ঘুরিয়েছে দেশের অর্থনীতির চাকাও।কলারোয়া উপজেলার মুরারীকাটি, শ্রীপতিপুর ও মির্জাপুর এ তিন গ্রাম এখন টালি শিল্প পল্লী হিসেবে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। তিনটি গ্রামে টালি কারখানা রয়েছে প্রায় ৩২টি। ২০০০ সালের আগ পর্যন্ত এ টালি দেশের মানুষ ঘরের চালের ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। ২০০০ সালের পর থেকে মাটির তৈরি টালি বিদেশে রফতানি হতে থাকে। প্রথমে টালি ইতালির বাজার দখল করে। পরে তা বিস্তৃত হয়ে নেদারল্যান্ড, দুবাই, স্পেন, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের বাজারে ক্রেতা সৃষ্টি করেছে।  বছরে বিদেশে টালি রফতানি করে কলারোয়া টালি শিল্প পল্লীর কারখানা মালিকরা আয় করেছেন প্রায় ১২ কোটি টাকা।
 গোস্ট চন্দ্র পাল বলেন,  বছরে ৬ থেকে ৭ মাস টালি তৈরি ও বিক্রয় হয়। সাধারণত বছরের অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয় টালি তৈরি মৌসুম। চলে মে/জুন পর্যন্ত। বাকি সময় বর্ষাকাল থাকায় টালি তৈরি করা যায় না। ১৫ থেকে ২০ প্রকার টালি রয়েছে তার কারখানায়। একেকটি টালির একেক রকম নাম। তাদের মধ্যে স্কয়ার, রকট্যাংগুলার, স্টেপ টাইলস, হেক্সা গোনার, স্কাটিং প্রভেন, সালেহ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। প্রতি পিস টালির দাম ২ টাকা থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত। ৩০ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য ২০ সেন্টিমিটার প্রস্থ ও ৩ সেন্টিমিটার পুরু একটি স্কায়ার টালির দাম ১০ টাকা। ৫০ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য ২৫ সেন্টিমিটার প্রস্থ ও ৩ সে.মি. পুরু রেকট্যাংগুলোর টালির দাম ৩২ টাকা, বহুল প্রচলিত ৩০ সে.মি দৈর্ঘ্য ১৫ সে.মি প্রস্থ ও আড়াই সে.মি পুরু একটি রেকট্যাংগুলার টালির দাম ৬ টাকা। আবার ৪০ সে.মি প্রস্থ ও ৩ সে.মি পুরু একটি স্কয়ার টালির দাম ৪০ টাকা। স্কয়ার টালি সাধারণত দেয়ালের শোভাবর্ধনে ঘরের চালের ছাউনিতে ব্যবহার করে থাকে বিদেশীরা।
 ঘরের মেঝে সাজানোর জন্য রয়েছে ফুলের আকারে প্রভেন সালেহ। প্রতি পিস প্রভেনসালের দাম ২৫ টাকা। এভাবে একেকটি টালির নকশা, গঠন ও আকার অনুযায়ী দামের তফাৎ রয়েছে। দাম সস্তা হলেও এগুলোর সৌন্দর্য, গুণগতমান ও স্থায়িত্ব অতুলনীয়। ঘর সাজানোর জন্য শিল্পীরা তৈরি করেছেন সার্কেল টাইলস। ৪টি সার্কেল টাইলস নিয়ে একটি সেট। এক সেট সার্কেল টাইলস’র দাম ৪০ টাকা। গোস্ট চন্দ্র পাল আরো বলেন, সাতক্ষীরার মাটির তৈরি এসব টালি মংলা বন্দর দিয়ে দুবাই ও ইউরোপে রফতানি করা হয়। দুবাই থেকে আবার কিছু টালি প্রসেসিং হয়ে আমেরিকারসহ বিভিন্ন দেশে যায়। বর্তমানে ফ্রান্সের বাজার ধরার চেষ্ট চলছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো মেশিন বা যন্ত্র ছাড়াই কারিগররা তাদের সুনিপুণ হাতের স্পর্শে মাটি দিয়ে তৈরি করেন এসব টালি। তৈরিকৃত টালি রোদে শুকানোর পর চুল্লিতে বা পনে পোড়ানো হয়। ১৬ ঘণ্টা বিশেষ নিয়মে পনে জ্বাল দিতে হয়। জ্বাল দেয়ায় হেরফের হলে টালির আকার আকৃতি ও পোড়ের কম বেশি হয়। এতে টালির মান ভালো হয় না। সাধারণত মাসে একবার একটি পনে টালি পোড়ানো হয়।  তিনি বলেন, সরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্টপোষকতা পেলে এ শিল্প থেকে সরকার কোটি কোটি টাকা আয় করে দেশের অর্থনীতির বিকাশ ঘটাতে পারবে। দারিদ্য বিমোচনে এ শিল্প উন্মোচন করতে পারে সম্ভাবনার নব দিগন্ত।  টালি শিল্পের বিকাশে কিছু প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এলাকার কারখানা মালিকরা ঐক্যবদ্ধ নয়। ফলে একেক মূল্য। মহাজনরা বাকিতে টালি কিনে সময়মতো বিল শোধ করে না। একই গ্রামের সন্তোষ পালের স্ত্রী অলোকা পাল আক্ষেপ করে বলেন, এই শিল্পে আমাদের রুটি রুজির উৎস। এর উপরেই বেঁচে আছি আমরা। ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে গত বছর টালি তৈরি করে মহাজনদের হাতে তুলে দিয়েছি এখনো টাকা দেয়নি।

Tuesday, July 9, 2013

গোলাপ জল তৈরির নিয়ম

 মূলধন: ১২ বোতল গোলাপ জল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনতে আনুমানিক ৫২০-৬৮৫ টাকার প্রয়োজন হবে।
 



প্রয়োজনীয় উপকরণ, পরিমাণ, মূল্য প্রাপ্তিস্থান 
উপকরণ 
পরিমাণ 
আনুমানিক মূল্য (টাকা
প্রাপ্তিস্থান 
গোলাপ ফুল
পরিমাণ মতো
২০০-৩০০
ফুলের দোকান
মাটির বড় পাত্র
১টি
৫০-৬০
মাটির জিনিসপত্রের দোকান
তুলা
প্যাকেট
১০-১৫
মুদি দোকান
অটো ডি রোজ
পরিমাণ মতো
১০০-১২০
ক্যামিকেলস্-এর দোকান
ম্যাগনেসিয়া
পরিমাণ মতো
১০০-১২০
ক্যামিকেলস্-এর দোকান
প্লাস্টিক বোতল
১২টি
৬০-৭০
মুদি দোকান
                          মোট খরচ=৫২০-৬৮৫ টাকা 
 


সাধারণত দু’ভাবে গোলাপজল তৈরি করা হয়:  1=  প্রাকৃতিক উপাদানের মাধ্যমে,     2= কৃত্রিম উপায়ে,
 
* প্রাকৃতিক গোলাপ জল তৈরির নিয়ম:
প্রাকৃতিক গোলাপ জল প্রকৃতিতে পাওয়া উপাদান দিয়েই তৈরি করা যায়। এক্ষেত্রে যেটা করতে হবে তা হলো-
১. সদ্য ফোটা গোলাপ ফুল নিয়ে পাপড়িগুলোকে আলাদা করতে হবে।
২. পাপড়িগুলো পরিষ্কার ঠান্ডা পানিতে এমনভাবে ধুয়ে নিতে হবে যাতে কোনও ময়লা না থাকে।
৩. পাপড়িগুলোকে বড় মাটির পাত্রে রেখে তাতে পরিষ্কার ঠান্ডা পানি ঢেলে পাত্রটি সাত-আট দিন সূর্যের আলোয় রেখে দিতে হবে
৪. প্রথম তিন চার দিন পাত্রের ভেতরে কিছুই দেখা যাবে না; তবে চতুর্থ বা পঞ্চম দিনে পানির উপর এক ধরণের তেলের মতো দ্রব্য ভাসমান অবস্থায় দেখা যাবে
৫. আরও দুই দিন রাখলে দেখা যাবে তেলের মতো দ্রব্য ফেনাযুক্ত হয়ে পানির উপরে ভাসছে।
৬. পরিষ্কার তুলো দিয়ে সাবধানে ফেনাগুলো তুলে ফেলার পর অবশিষ্ট পানিটাই হচ্ছে গোলাপ জল।
৭. যদি ওই গোলাপ জলে আবার গোলাপ পাপড়ি ভিজিয়ে রাখা হয় তাহলে ওই পানিতে আবার ফেনা তৈরি হবে। ফেনাগুলো তুলে নেওয়ার পর অবশিষ্ট পানিটি উৎকৃষ্ট ও ভালো গোলাপ জল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
৮. গোলাপ জলের স্বাদ তিক্ত হয়। তাই গোলাপজল তৈরি হয়েছে কি না তা মুখে দিলেই বুঝা যাবে।







*কৃত্রিম গোলাপ জল তৈরির নিয়ম :
প্রাকৃতিক উপাদান ছাড়াও কৃত্রিম উপায়ে গোলাপ জল তৈরি করা যায়। এক্ষেত্রে যেটা করতে হবে-
1.    প্রথমে কাঁচের পাত্রে অটো ডি রোজ এর সঙ্গে ম্যাগনেসিয়া দিয়ে ভালোভাবে নাড়াতে হবে। এই পদার্থ দুটি ভালোভাবে মেশানোর পর তাতে পরিমাণ মতো চোয়ান জল ঢেলে দিতে হবে। এর পর পাত্রটি তিন চারদিন ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।
2.    কৃত্রিম গোলাপ জল তৈরির জন্য বৃষ্টির পানিই ভালো। কিন্তু বৃষ্টির পানি না পাওয়া গেলে চোয়ান জল ব্যবহার করতে হবে।
3.    চোয়ান জল তৈরির জন্য প্রয়োজন বক যন্ত্রের। একটি পাত্রে পানি ঢেলে তার মুখ ভালো করে বন্ধ করে শুধুমাত্র একটি নল বসিয়ে দিতে হবে। নলটি লম্বায় দশ বা বারো হাত লম্বা হলে ভালো হয়। নলটির শেষে একটি বোতল রাখতে হবে এবং নলটি ঠান্ডা পানি অথবা বরফ পানির মধ্যে দিয়ে আনতে হবে।
4.    এখন পানি ভর্তি পাত্রটির নীচে জ্বাল দিতে হবে।
5.    তাপে পানি ফুটতে শুরু করলে এর থেকে এক ধরণের বাষ্প বের হবে। সেই বাষ্প নলের ভেতর দিয়ে যাবার সময় ঠান্ডা পানি অথবা বরফ পানির স্পর্শ পাওয়ার পর আবার তরলে পরিণত হবে এবং নলের মুখে যে বোতল থাকবে তাতে গিয়ে পড়বে। এই পানিকেই চোয়ান জল বলে।
6.    তিন/চার দিন পর মিশ্রণ ফিল্টার পেপারে ছেঁকে নিলে খুব ভালো গোলাপ জল পাওয়া যাবে।
7.    এই  গোলাপ জলের স্বাদও তিক্ত এবং গন্ধ খুব সুন্দর হবে। কিন্তু গোলাপ ফুল থেকে তৈরি গোলাপ জলের গন্ধ বেশি মিষ্টি হবে।
 


•    সাবধানতা
1.    গোলাপ ফুল বাছাই করার সময় টাটকা ফুল সংগ্রহ করতে হবে।
2.    সুগন্ধীর দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

Thursday, July 4, 2013

ফাইবার ভাস্কর্য


ফাইবারের
যেভাবে বাননো হয় ভাস্কর্য
রেজিন, কেমিক্যাল এঙ্েেলটর, ওভাল, সাদা পাউডার রং, মোম ও জেলকোড দিয়ে কেমিক্যাল মিঙ্ার বানাতে হয়। পা থেকে শুরু করে পরতে
পরতে মিঙ্ার দিয়ে ফাইবার গ্লাস লাগিয়ে যেতে হয়। দুই থেকে তিন দিনে পূর্ণাঙ্গ রূপ পায় একটি ভাস্কর্য।

কাঁচামাল ও লাভ
ফাইবার ভাস্কর্য বানাতে প্রয়োজন পড়বে ফাইবার গ্লাস, রেজিন, কেমিক্যাল এঙ্েেলটর, ওভাল, পাউডার, সাদা রং, মোম, জেলকোড। আর লাগবে
একজনের ছয় দিনের সমপরিমাণ শ্রম। কাঁচামাল সংগ্রহ করা যাবে গুলিস্তানের নাসির গ্লাস নামের দোকান থেকে। এ ছাড়া যেকোনো পাইকারি প্লাস্টিক
কাঁচামাল আমদানিকারক দোকান থেকেও সংগ্রহ করা যাবে এসব কাঁচামাল।

বর্জ্য থেকে বায়ো ইথানল ও জেট ফুয়েল




বাংলাদেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে বায়ো ইথানল ফুয়েল উৎপাদন শুরু হচ্ছে সিলেটে এশিয়ার মধ্যে প্রথম এই পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হবে
পদ্ধতিতে বর্জ্য থেকে উৎপাদন করা হবে বায়ো ইথানল জেট ফুয়েল সাশ্রয় হবে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ব্যয়ে ইকো ওয়াল্ড ওয়াইড (বিডি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট নির্মাণ করবে সিলেট সিটি করপোরেশনে
ইকো ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের (বিডি) পরিচালক মোশতাক আহমদ বলেন, “ইকো ওয়ার্ল্ড ওয়াইড বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বায়ু ইথানল আবিষ্কারের মেশিনটি এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে প্রথম স্থাপন করতে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যান্য সিটি এই মেশিনের মাধ্যমে লাভজনকভাবে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করছে
একই সঙ্গে ভারতের বোম্বেতেও মেশিনটি স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলেও উল্লেখ করেন মোশতাক আহমদ
বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্পর্কে তিনি বলেন, “প্রথমে বর্জ্যকে মেশিনের মাধ্যমে জাত অনুসারে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করা হবে এরপর কঠিন জাতীয় বর্জ্যগুলো যেমন, কাচ, প্লাস্টিক, সিরামিক ইত্যাদি আলাদাভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হবে অন্যগুলোও পৃথকভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণ চলবে এভাবে ৩টি ধাপে প্রক্রিয়াজাত শেষে বায়ো ইথানল তৈরি হবে
তিনি আরো জানান, “এই পদ্ধতি ব্যবহারে কোনো দুর্গন্ধ ছড়াবে না ফলে পরিবেশ দূষণের কোনো সম্ভাবনা নেই
এর সুফল সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে প্রাথমিকভাবে উৎপাদন করা হবে বায়ো ইথানল পরবর্তীতে উৎপাদন করা হবে মূল্যবান জেট ফুয়েল ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে পারবে বাংলাদেশ একই সঙ্গে জেট ফুয়েল উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ বিমান এবং অন্যান্য এয়ারক্রাফটগুলো এখান থেকে জেট ফুয়েল রিফুয়েলিং করতে পারবে এতে আয় বাড়বে সরকারের
উৎপাদন ক্ষমতা সম্পর্কে ইকো ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের সিইও এডওয়ার্ড রোয়ার্থ  বলেন, “প্রতিদিন ২০০ টন বর্জ্য পাওয়া গেলে বছরে ৪০০ মিলিয়িন লিটার বায়ো ইথানল তৈরি করা সম্ভব হবে’’
চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর সিটি করপোরেশনের বর্তমান ডাম্পিং স্টেশনকে ১৫ থেকে ২০ বছরের জন্য নির্দিষ্ট অংকের টাকার বিনিময়ে ওয়ার্ল্ড ওয়াইডকে লিজ দেওয়া হবে এরপর ওয়ার্ল্ড ওয়াইড কাজের জন্য সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ করবে এতে সিটি করপোরেশনের কোনো ব্যয় বাড়বে না”‍

কার্যক্রমে শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নগর উন্নয়ন পরিকল্পনাবিদদেরও সম্পৃক্ত করা হবে বলে জানান মেয়র
ওয়ার্ল্ড ওয়াইড (বিডি) আরো জানায়, কার্যক্রম শুরু হলে দেড় থেকে দুই হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে