Wednesday, June 19, 2013

মাশরুম প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা


মাশরুম প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা হচ্ছে সিলেটে  নাজমুল আলম শিশির
বাংলাদেশে মাশরুমের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সরকারি ও বেসরকারি নানা উদ্যোগের ফলে মাশরুমের ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ আগের তুলনায় এখন অনেক বেড়েছে। দিনে দিনে মাশরুম সম্পর্কে মানুষের নানা ভ্রান্ত ধারণাও পাল্টে যাচ্ছে। অনেকেরই প্রিয় খাদ্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে মাশরুম। ফলে বাড়ছে উৎপাদন, সম্প্রসারিত হচ্ছে বাজার। আর লাভবান হচ্ছেন মাশরুম চাষীরা। এ সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের প্রথম মাশরুম খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে সিলেট মাশরুম উৎপাদন বিপণন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড।
মাশরুম চাষ এবং বিপণনের সঙ্গে জড়িতরা জানান, কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশে মাশরুমের বাজার ছিল সীমিত। কেবল ঢাকাসহ বড় বড় শহরের চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, তারকাখচিত হোটেল ও বিদেশি ফাস্টফুডের দোকানেই ছিল মাশরুমে চাহিদা। ক্রেতা ছিলেন দেশে অবস্থানরত বিদেশিরা। এখন দেশীয়দের ভেতরেই গড়ে উঠেছে মাশরুমের ভোক্তা-শ্রেণী। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ফাস্টফুডের দোকানের পাশাপাশি ফুটপাতেও মাশরুমের তৈরি খাবার পাওয়া যাচ্ছে।
চাষীরা বলছেন, অন্য যে কোনো চাষের চেয়ে মাশরুমের চাষ লাভজনক। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশ সব দিক থেকেই মাশরুম চাষ বাংলাদেশের জন্য লাভজনক। মাশরুম চাষে পুঁজি ও শ্রম লাগে কম। আর মাত্র সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে মাশরুম পাওয়া যায়। আর খরা, বৃষ্টি বা অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাশরুম উৎপাদন ব্যাহত হয় না বলে লোকসান হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। মাশরুম চাষী গৌর বন্ধু দাস কাঁচা মাশরুমের উৎপাদন খরচ কেজিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা বলে জানান। আর বাজারে বিক্রি হয় ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি। আর শুকনা মাশরুম প্রতি কেজি এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
জাপান সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় ঢাকার অদূরে সাভারের হর্টিকালচার সেন্টারে আশির দশকের শুরুতে দেশের সর্বপ্রথম মাশরুম চাষ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ১৯৮৭ সালে মাশরুম চাষের প্রসারে এগিয়ে আসে। মাশরুম চাষের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৫ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ছয় বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। এরপর ২০০৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদি মাশরুম উন্নয়ন প্রকল্প নামে আরো একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত চার বছর মেয়াদি মাশরুম উন্নয়ন জোরদার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সারাদেশে ১৬টি সাব সেন্টারের মাধ্যমে এই প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমানে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে মাশরুম চাষ হচ্ছে। বিশ্বের উৎপাদিত মাশরুমের ৭০ ভাগই উৎপাদন হয় চীনে। আর ব্যবহারের দিক দিয়ে এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বে উৎপাদিত মাশরুমের শতকরা প্রায় ৩০ ভাগই ব্যবহৃত হয় আমেরিকায়। এ ছাড়া জার্মানিতে শতকরা ১৭ ভাগ, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে ১১ ভাগ, ইতালিতে ১০ ভাগ এবং কানাডায় বিশ্বে উৎপাদিত মাশরুমের শতকরা ৬ ভাগ ব্যবহৃত হয়। বাদবাকি ১৫ ভাগ মাশরুম ব্যবহার হয় বিশ্বের বাকি দেশসমূহে।
বাংলাদেশে আগের তুলনায় বর্তমানে মাশরুমের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। গড়ে উঠেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। সিলেট মাশরুম উৎপাদন বিপণন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডেরই সদস্য আছে ২২১ জন চাষী। এই সমিতি মাশরুমের বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শ্রীরামপুরে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করেছে। এ ল্যাব থেকে প্রতি মাসে ১২ থেকে ১৫ হাজার উন্নতমানের মাশরুম বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রথম মাশরুম খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে। 'ওয়েস্টার ফুড অ্যান্ড সুইট্স্ ইন্টাস্ট্রিজ' নামের এই প্রক্রিয়াজাতকণ কেন্দ্রে প্রাথমিকভাবে প্রায় দুই কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে সিলেট মাশরুম উৎপাদন বিপণন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড। এরই মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। সিলেট শহরের তেলি হাওর এলাকায় এ কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে।
সিলেট মাশরুম উৎপাদন বিপণন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক ডা. জালাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বাংলাদেশে প্রথম মাশরুম খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছি আমরা। প্রাথমিকভাবে দুই কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও এর সাফল্যের ওপর নির্ভর করে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে।'
সিলেটের মাশরুম চাষী রফিকুল ইসলাম বলেন, মাশরুমের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ছাড়াও বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের উৎপাদিত মাশরুম দিয়ে দেশের চাহিদা মিটছে না। ফলে বাইরে থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। আরো বেশি উৎপাদন করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করাও সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

Sunday, June 16, 2013

লাভজনক আবাদ আঙুর চাষ

 জয়পুরহাট জেলা শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে আক্কেলপুর উপজেলার জামালগঞ্জ বাজারের বাসিন্দা রুহুল ইসলাম  ঢাকার একটি পাঁচতারা হোটেলের প্রধান প্রকৌশলী। ৪ বছর আগে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া প্রদেশের মিলডোয়ায় এক আঙুর খামার মালিকের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। জয়পুরহাট জেলার ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া ও মাটির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জেনে অস্ট্রেলিয়ার সেই খামারির পরামর্শে ২০০৯ সালে বীজহীন দুই জাতের এক হাজার আঙুরের চারা অস্ট্রেলিয়া থেকে আনান। এই চারার মধ্যে মেনিনডি ও ক্রিমসন সিডলেস জাত রয়েছে। তিনি তার ৬ বিঘা জমির উপরি ভাগের মাটি কেটে তুলে ফেলে ২ ফুট বালু ও মুরগির বিষ্ঠা মিশিয়ে আঙুর চাষের উপযোগী করে জমি তৈরি করেন। বিদেশ থেকে আনা ওই চারাগুলো থেকে তিনি আরও ২২৫টি চারা তৈরি করে মোট এক হাজার দুইশ' চারা তার জমিতে লাগান। আরসিসি খুঁটি ও জিআই তার দিয়ে তৈরি করেন জাংলা। অস্ট্রেলিয়ার ওই খামারির পরামর্শে তিনি তার আঙুরের বাগান পরিচর্যা করতে থাকেন। বাগান পরিচর্যার জন্য সার্বক্ষণিক ৬ জন কাজ করছে। রোগবালাই তেমন না থাকলেও পাখির হাত থেকে রক্ষার জন্য পলিথিনের ব্যাগ দিয়ে আঙুরের থোকা ঢেকে দিতে হয়। ১ বছর ৮ মাস পর রুহুল ইসলামের এই বিশাল বাগানের ৫শ' গাছে এখন থোকা থোকা মিষ্টি আঙুর ঝুলছে। ইতিমধ্যে ওই বাগান থেকে আঙুর বিক্রিও শুরু হয়েছে। প্রতি থোকায় ১৫-৩৫টি আঙুর ধরেছে, যার ওজন ১০০ থেকে ৩০০ গ্রাম। ইতিমধ্যে প্রতি কেজি আঙুর ২৬০ টাকা দরে বিক্রি করে বাণিজ্যিকভাবে আঙুরের বিক্রি শুরু করেছেন রুহুল ইসলাম। বাগানে লাগানো আঙুর গাছগুলোতে বছরে দু'বার আঙুর ধরবে। এই আঙুর বিদেশি আঙুরের মতোই মিষ্টি ও সুস্বাদু। জমি বাদে তাদের এই বাগান তৈরি করতে এ পর্যন্ত ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তারা এই গাছ থেকে ১০ হাজার চারা তৈরি করেছেন। এ বছর আঙুর ও চারা বিক্রি করে এক কোটি টাকা আয় করবেন বলে প্রকৌশলী রুহুল ইসলামের ভাই বাগান তত্ত্বাবধায়ক জিল্লুর রহমান আশা করছেন। জয়পুরহাট জেলা কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, আমরা প্রায়ই রুহুল ইসলামের আঙুরের বাগানে যাই এবং তাদের পরামর্শ দিয়ে থাকি। আঙুরগুলো খুবই মিষ্টি ও সুস্বাদুু। জয়পুরহাটের মাটিতে আঙুর চাষ লাভজনক হবে। জয়পুরহাটে রুহুল ইসলামের আঙুর চাষের পর এই লাভজনক আবাদের বিষয়ে আরও অনেকে উৎসাহিত হয়ে উঠছেন। এই লাভজনক আবাদ সম্প্রসারিত হলে অর্থনৈতিকভাবে এ অঞ্চলে একটি বিপল্গব ঘটবে। আঙুর চাষের এলাকা সম্প্রসারিত হলে একদিকে দেশের আঙুরের চাহিদা অনেকটা মিটবে এবং অন্যদিকে বিদেশ থেকে আঙুর আনার প্রবণতা কমে যাবে। বাঁচবে বৈদেশিক মুদ্রা। আঙুর আসবে সাধারণ মানুষের নাগালে।

Saturday, June 15, 2013

বায়োগ্যাস প্রযুক্তি পাল্টে দিতে পারে গ্রামবাংলার চিত্র


বগুড়ায় আরডিএ'র উৎপাদিত বায়োগ্যাস প্রযুক্তি পাল্টে দিতে পারে গ্রামবাংলার চিত্র
মানুষ ও গবাদী পশুর মলমূত্র কাজে লাগিয়ে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়া বায়োগ্যাস উৎপাদন করে গ্রাম বাংলার চিত্র পাল্টে দিতে শুরু করেছে। বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে উৎপাদিত গ্যাস প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তর করে বাড়ি ঘরের চুলায় রান্না বান্না করা ছাড়াও সিলিন্ডারে বোতলবন্দি করা হয়েছে। সিএনজি স্টেশন বসানোর কাজও শেষ হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে মোটর যানে গ্যাস দিতে সক্ষম হবে আরডিএ, বগুড়া। মানুষের জীবন জীবিকা তথা আর্থ সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন, জ্বালানি-চাহিদা মেটাতে কমিউনিটি বায়োগ্যাসের বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়া ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আব্দুল মতিন, তিনি বলেন, বায়োগ্যাস উৎপাদন করে বাণিজ্যিক পর্যায়ে চলে যেতে সক্ষম হয়েছে আরডিএ, বগুড়া। শুধু গ্যাস উৎপাদনই নয়, বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে এই প্লান্ট। বিপুল জনসংখ্যার প্রয়োজন মেটাতে বর্তমানে বার্ষিক প্রায় ৪ কোটি টন জৈব জ্বালানি চাহিদার বিপরীতে প্রাকৃতিক উৎসগুলির পক্ষে জ্বালানি সরবরাহ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে গরু-মহিষের সংখ্যা ২২ বিলিয়ন। দৈনিক গড়ে ১০ কেজি হিসেবে গরু/মহিষ থেকে গোবর উৎপাদন হয় ২২০ মিলিয়ন কেজি। প্রতি কেজি গোবর থেকে ০.০৩৬ ঘন লিটার হিসেবে বছরে প্রায় ৭.৯২ মিলিয়ন ঘন লিটার বায়োগ্যাস পাওয়া যেতে পারে। আরডিএ'র ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আরও বলেন হাঁস-মুরগী ছাগল-ভেড়ার বিষ্টা,  আবর্জনা, কচুরিপানা থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বায়োগ্যাস পাওয়া সম্ভব। নিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এনে দিতে পারে কাম্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশ বান্ধব বাংলাদেশ। এছাড়া গ্রীণ হাউজ গ্যাস ও জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি হ্রাস করলেও বায়োগ্যাস প্রযুক্তি বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়া গ্রামীণ জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে একটি সামাজিক আন্দোলন সূচনার লক্ষ্যে কমিউনিটি বায়োগ্যাস প্রকল্প নামে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকারের অর্থায়নে ২০০৯-২০১৪ মেয়াদে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং ইতোপূর্বে বাস্তবায়িত গবেষণার সফল অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে সারা বাংলাদেশে ১১২টি এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩৩টি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। কেবলমাত্র উত্তরাঞ্চলের বাস্তবায়িত প্রতিটি উপ প্রকল্পের জন্য বর্গা প্রথায় গরু পালনের লক্ষ্যে ৩.০০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সর্বমোট ১৩,৪৪০ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। গ্রাম বাংলার চিত্র পাল্টে দিতে আর ডিএ, বগুড়ার মহাপরিচালক ও অনুষদ সদস্যবৃন্দকে অভিনন্দন আমরা জানাই। আরডিএ গ্রাম বাংলার মানুষের হৃদয় ও প্রাণকে স্পর্শ করেছে। পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়ার সাফল্য, সম্মান আর অগ্রগতির তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতে ঋণ দেয়া হচ্ছে


বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ম অনুসারে হালকা কৃষি যন্ত্রাংশ ও কৃষি পণ্যের প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানই এসএমই  খাতভুক্ত। শিল্পের ভূমি ও ইমারত খরচ বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি পর্যন্ত এসএমই শিল্প খাতের আওতায়। দেশের বিভাগীয় সদর ও নারায়ণগঞ্জ শহর বাদে কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য মফস্বলভিত্তিক শিল্প স্থাপনের জন্য এই ঋণ দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকা অনুযায়ী ৩৬টি খাতের মধ্যে ২০টি খাদ্যজাত ও ১৬টি খাদ্য বহির্ভূত কৃষিজাত শিল্প হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১৬২ কোটি ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৮৩৭ টাকা। এ বিতরণকৃত ঋণ ২১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ১৭টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৯৯৩টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছে।

জানা গেছে, কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতের সুষ্ঠু বিকাশ ও উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক শতভাগ পুনঃঅর্থায়ন করে থাকে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন অনুসারে ঋণ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কৃষিভিত্তিক এ শিল্প খাতে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সুদে চলতি মূলধন এক বছর , তিন বছর , পাঁচ বছর মেয়াদ হারে এ ঋণ দিয়ে থাকে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

Friday, June 14, 2013

গ্যানোডার্মার মাশরুমের বীজ উত্পাদন


গ্যানোডার্মার বীজ উত্পাদন - মাশরুমের অঙ্গজ বীজ অর্থাত্ স্পন তৈরির জন্য প্রধান উপাদান হিসেবে কাঠের গুঁড়ো,আখের ছোবরা,ভুট্টার খড় ব্যবহার করা যায়, এর সাথে সাপ্লিমেন্ট হিসেবে গমের ভূষি, চালের কুঁড়া, ভুট্টার গুঁড়ো প্রভৃতিব্যবহার করাযায়।মাশরুম উন্নয়নওকেন্দ্র কাঠের গুঁড়ো, গমের ভূষি ও চালের কুঁড়া দিয়ে অত্যন্ত সহজে স্পন তৈরি করছে যাতে ভাল ফলনপাওয়াযায়।
সাবস্ট্রেট ফরমুলেশন ও স্পন তৈরি:
ফরমুলেশন-১: কাঠের গুঁড়ো- ৭০%, গমের ভূষি-২৫%, ধানের তুষ-০৫%, ক্যালসিয়াম কার্বনেট-০.২%, পানি- ৫০ থেকে ৬০%।
ফরমুলেশন-২: কাঠের গুঁড়ো- ৭০%, চালের কুঁড়া ২২.৫%, ধানের তুষ-২.৫%, ক্যালসিয়াম কার্বনেট-০.২%,  পানি- ৫০ থেকে ৬০%।
 উল্লেখিত উপাদানগুলো ভালভাবে মিশিয়ে পিপি ব্যাগে ১ কেজি অথবা আধা কেজিকরে ভরে প্লাস্টিক নেক দিয়ে বেঁধে কাঠের কীলক দ্বারা প্যাকেটের মুখে গর্ত করে দিতে হবে। এরপর কটনপ্লাগ দিয়ে মুখ বন্ধ করে ব্রাউন পেপার এবং রাবার ব্যান্ড দিয়ে বেঁধে দিতে হবে। এরপর অটোক্লেভ মেশিনে ১২০০ সে. তাপমাত্রায় ১.৫কেজি/ঘন ইঞ্চি বাষ্প চাপে ২ ঘণ্টা রেখে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। প্যাকেট ঠাণ্ডা হলে ল্যাবরেটরিতে ক্লিনবেঞ্চে জীবাণুমুক্ত অবস্থায় মাদার কালচার দিয়ে উক্ত প্যাকেটে ইনোকুলেশন করতে হবে। ইনোকুলেশনকৃত প্যাকেটগুলোকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন অন্ধকার ঘরে ২৮ থেকে ৩৫০ সে. তাপমাত্রায় মাইসেলিয়াল কলোনাইজেশনের জন্য রেখে দিতে হবে। এভাবে ২০থেকে ২৫ দিন রাখার পর মাইসেলিয়াম দ্বারা প্যাকেট পূর্ণ হবে যা পরবর্তীতে চাষ ঘরে ব্যবহূত হবে।
প্যাকেট কাটা:  গ্যানোডার্মা মাশরুমের স্পন প্যাকেট বিভিন্নভাবে কাটা যায়। চাষ ঘরে প্যাকেট বসানোর আগে মাইসেলিয়াম পূর্ণ স্পন প্যাকেট হতে নেক, তুলা, ব্রাউন পেপার ইত্যাদি খুলে প্যাকেটের মুখ রাবার ব্যান্ড দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দিতে হবে। কোণাযুক্ত প্যাকেটের একপাশে মাঝ বরাবর এক বর্গ সে.মি. আকারে পিপি কেটে ব্লেড দিয়ে সাদা অংশ চেঁছে ফেলতে হবে। এরপর চাষ ঘরের তাকে সারি সারি করে বসিয়ে দিতে হবে। স্পন প্যাকেট হতে নেক, তুলা, ব্রাউন পেপার ইত্যাদি খুলে প্যাকেটের মুখ খোলা রেখে দিয়েও মাশরুম চাষ করা যায়। চাষ ঘরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের কৌশল থাকলে স্পন প্যাকেটের উপরের পুরো মুখ খুলে দিয়ে ও মাশরুম চাষ করা যেতে পারে।
পরিচর্যা: প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য দিনে ৩ থেকে ৪ বার মৃদু পানি সেপ্র করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন কোনো অবস্থায় আর্দ্রতার পরিমাণ কমে না যায়। এভাবে পরিচর্যা করলে ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই সাদা শক্ত মাসরুমের কুড়ি , ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে আঙুলেরমত লম্বা হয়ে লালচে বর্ণের এবং ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে অগ্রভাগ হাতের তালুরমত চ্যাপ্টাকৃতি ধারণ করবে। এই অবস্থায় চাষ ঘরের আলো ও বায়ু চলাচল বাড়িয়ে দিতে হবে।
মাশরুম সংগ্রহ: ঘরে বসানোর দের মাসের মধ্যেই মাশরুম সংগ্রহ করা যায়। পরিপক্ক ফ্রুটিং বডি সংগ্রহের উপযোগী লক্ষণ হল মাসরুমের কিনারার বৃদ্ধি থেমে গিয়ে চকচকে লাল বর্ণ ধারণ করে এবং অসংখ্য লালচে স্পোর নিচে পরতে দেখা যায়। পরিপক্ক ফ্রুটিং বডি তুলে নেওয়ার পরে প্যাকেটের কাটা স্থানে একটু চেঁছে দিলে খুব দ্রুত দ্বিতীয় বার ফলন পাওয়া যায়। এভাবে নিয়মিত পরিচর্যা করলে প্রতি প্যাকেট হতে ৩ থেকে ৪ বার ফলন পাওয়া সম্ভব। প্রতি কেজি স্পন থেকে ৭০ থেকে ৯০ গ্রাম মাশরুম পাওয়া যায়।
সংরক্ষণ:
গ্যানোডার্মা মাশরুম সংগ্রহ করে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে রোদে শুকাতে হবে। এরপর পিপি ব্যাগে বা বোতলে ভরে বায়ুরোধী অবস্থায় ২ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এছাড়া স্লাইস বা পাউডার করেও অনেক দিন রাখা যায়। ৩.০-৩.৫ কেজি তাজা মাশরুম শুকালে ১ কেজি শুকনো ঋষি মাশরুম পাওয়া যায়।
ব্যবহার: মাশরুম পাউডার করে বা স্লাাইস করে কেটে পানিতে মৃদু তাপে জ্বাল দিয়ে মাশরুমের নির্জাস বের করে লেবুর রসসহ গরম-গরম অথবা ঠাণ্ডা করে খাওয়া যায়।

কাজু বাদাম- বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা

কাজু বাদাম- বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা । আমের আরেক ভাই কাজু বাদাম। খুবই সুস্বাস্থ্য একটি ফল। এক হাজার টাকা কেজি। ভারত প্রতি বছর কাজু বাদাম রপ্তানি করে হাজার হাজার ডলার আয় করছে। বাংলাদেশের জলবায়ু কাজু বাদাম চাষের উপযোগী হলেও খুবই মূল্যবান এ ফলটি চাষের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আমাদের পার্বত্য এলাকা ছাড়াও অন্যান্য জেলায় কাজু বাদামের চাষ করে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। দেশীয় বাজারেও ওই বাদামের বেশ চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ২১ শতাংশ আমিষ, ৪৭ শতাংশ স্নেহজাতীয় পদার্থসহ অন্যান্য ভিটামিন থাকায় এটি স্বাস্থ্যসম্মত। কাজু বাদাম এমনি খেতে খুবই চমৎকার। এছাড়া মিষ্টি, ফিরনি-পায়েস, পোলাও-কোর্মার সঙ্গে স্বাদ বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। দক্ষিণ ভারত এমনকি পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে কাজুর চাষ হয়। ওইসব স্থানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাগানের মতো কাজু বাদামের বিরাট বিরাট বাগান রয়েছে। ভারতে প্রথম পর্তুগিজরা ভূমিক্ষয় রোধ করার জন্য কাজু বাদামের চাষ শুরু করে। ব্রাজিল কাজু বাদামের আদি নিবাস। মাঝারি আকৃতির গাছে প্রচুর ফল হয়। চারা রোপণের ৪/৫ বছরের মধ্যে গাছে ফুল-ফল আসে। আম পাতার মতো কাজুর পাতা। তবে অভিনবত্ব হচ্ছে কাজুর ফল। এক গাছে দু'ধরনের ফল হয়। একটির নাম কাজু আপেল, অন্যটির নাম কাজু বাদাম। দুটি ফলই খাওয়া যায়। প্রথমে নরম তুলতুলে কাজু আপেল জন্মে। এই আপেলের মাথায় জন্মে কাজু বাদাম। কাজু আপেল সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া যায়। অনেকে এর জুস খায়। আপেলের রঙ হয় হলুদ। পাকলে আপনাআপনি ঝরে পড়ে। আপেলের মাথায় বাঁকা ফলই কাজু বাদাম। বাদামের ওপরে মোটা সহজ রঙের খোসা থাকে। বিশেষ পদ্ধতিতে প্রয়োগ করে এর খোসা ছাড়িয়ে বের করা হয় কাজু বাদাম। আমি যশোরের চাঁচড়ায় ১০ বছর আগে ভারত থেকে সংগ্রহ করে একটি কাজু বাদামের চারা রোপণ করেছিলাম। পাঁচ বছর ধরে গাছটিতে নিয়মিত ফল হচ্ছে। এখন একটি গাছেই প্রতি বছর ১০-১২ কেজি ফল হয়। এর ফুল দেখতে বেশ সুন্দর। নভেম্বর-ডিসেম্বরে ফুল আসে। যত্ন-আত্তির প্রয়োজন হয় না। বছরে একবার সার প্রয়োগ করা হলে ভালো ফল পাওয়া যায়। বীজ থেকে চারা হয়। তবে এখন গ্রাফটিং কলমের চারা বড় নার্সারিতে কিনতে পাওয়া যায়। কাজুর সমস্যা হচ্ছে ফল ছাড়ানো। ফলের ওপরের খোসা মোটা। এতে এক ধরনের তেল থাকে। তেল মূল্যবান। তবে তেল খাওয়া যায় না। অতি মূল্যবান ফসল কাজু বাদাম চাষের উদ্যোগ নেয়া হলে কৃষি ক্ষেত্রে আরেকটি বিশেষ ঘটনা ঘটবে।

দোতলা পদ্ধতিতে কৃষিকাজ


দোতলা পদ্ধতিতে কৃষিকাজ বর্তমানে দেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এতে ফসল উৎপাদনের তেমন কোন হেরফের হচ্ছে না, বরং দ্বিগুণ উৎপাদনের কারণে কৃষক লাভবান হচ্ছে। আর এ পদ্ধতিতে সোলার প্যানেল বসিয়ে সেচের ব্যবস্থা করলে উৎপাদন দ্বিগুণ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এ পদ্ধতিতে কৃষিজমি নষ্ট হয় না। ফসলের ক্ষেতে ছায়া পড়ার তেমন কোন সম্ভাবনা নেই। সারাদিন রোদ ও বাতাস থাকলে মাচার নিচের ফসলের গায়েও তা লাগবে। ইতোমধ্যে গ্রামীণ শক্তি নামের একটি প্রতিষ্ঠান এ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করেআসছে।তাই এ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে সোলার প্যানেল বসিয়ে সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে ধান উৎপাদনের চিন্তাকরছে সরকার। বর্তমানে সোলার পাম্প বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু যে পদ্ধতিতে কৃষিজমিতে সোলার প্যানেল বসিয়ে সেচের ব্যবস্থা করা হচ্ছে তাতে অনেক জমি নষ্ট হচ্ছে। ফলে সে জমিতে অতিরিক্ত কোন ফসলের চাষ করা সম্ভব হয় না। কিন্তু সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে, ধান ক্ষেতের ওপরে মাচা তৈরি করে দোতলা পদ্ধতিতে সহজেই লাউ কুমড়োর চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে মাচার নিচের ফসলের উৎপাদনের কোন হেরফের হচ্ছে না, বরং দ্বিগুণ ফসল উৎপাদন হচ্ছে। মাচার ফাঁক গলে যে আলো বাতাস আসে তা দিয়ে ধানসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন করা সম্ভব।
এ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে সোলার প্যানেল বসিয়ে কৃষিজমিতে সেচের কথা জানিয়েছেন বিদ্যুত সচিব আবুল কালাম আজাদ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে প্যানেল বসিয়ে সেচের ব্যবস্থা করলে অতিরিক্ত কৃষিজমি নষ্ট না করেই ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। বিদ্যুত সচিব সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এ পদ্ধতিতে প্যানেল বসিয়ে প্যানেলের নিচে ফসল উৎপাদন করা যায় কি না তা গবেষণা করে বিদ্যুত উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হবে। এতে করে সেচের জমিতে প্যানেল বসালে যে জমি নষ্ট হয় তা অন্য কাজে বা ফসল উৎপাদনেরও ব্যবহার করা যাবে। জমি নষ্ট না করে কৃষিজমিতে প্যানেল বসিয়ে সেচের ব্যবস্থা করা হলে তাতে ফসলের উৎপাদনও অনেকগুণ বেড়ে যাবে।
দেশে দোতলা পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনের এ পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করে তুলছেন বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর গবেষকরা। তাঁরা দেখিয়েছেন ধানের ক্ষেতে মাচা করে লাউ-কুমড়োর চাষ করা হলে তাতে নিচের ধান ক্ষেতে উৎপাদনে কোন সমস্যা নেই। গবেষণায় তাঁরা দেখিয়েছেন একটি ফাঁকা জমিতে যে পরিমাণ ধান উৎপাদন করা হচ্ছে, দোতলা পদ্ধতির চাষের ক্ষেত্রেও একই ধরনের উৎপাদন হচ্ছে, বরং দোতলা পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে কৃষক অধিক লাভবান হচ্ছে। বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর মহাপরিচালক এমএ মতিন জানান, এ পদ্ধতিতে কৃষক ধান ক্ষেতের ওপরে লাউ-কুমড়োর চাষ করে অতিরিক্ত ৩০ হাজার টাকার ফসল উৎপাদন করতে পারবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পদ্ধতিতে যদি ফসলের উৎপাদন না কমে তাহলে একইভাবে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুত উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। দেশে সৌরবিদ্যুত নিয়ে কাজ করছে গ্রামীণ শক্তি নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান থেকে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবহার জনপ্রিয় করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। গ্রামে যেখানে বিদ্যুতের আলো পৌঁছেনি সেসব এলাকায় সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থায় তারা বিদ্যুত পৌঁছে দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি সোলার হোম সিস্টেম ছাড়াও কৃষিজমিতে সোলার পাম্প বসিয়ে উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের সহায়তা দিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বসানো হয়েছে সেচপাম্প। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে নওগাঁর সাপাহার এলাকায় একই পদ্ধতিতে সোলার প্যানেল বসিয়ে তারা সবজি উৎপাদন ও ধান উৎপাদনে সহায়তা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন ধরে বিকল্প বিদ্যুত ব্যবহার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এমএ গোফরান। তিনি বলেন, এ পদ্ধতিতে ফসলের জমি নষ্ট না করেই উৎপাদন করা সম্ভব। দিনে রোদ থাকলে নিচের ফসলে ছায়া পড়ার সম্ভাবনা নেই। যেভাবেই হোক ফসলের গায়ে রোদ লাগবে। এতে করে ফসল উৎপাদনের তেমন কোন হেরফের হবে না। তিনি বলেন, গ্রামীণ শক্তি ইতোমধ্যে এ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে ধান ও সবজি একসঙ্গে উৎপাদন করছে।
এখন আর সোলার প্যানেলের মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদ আলোকিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, কৃষি উৎপাদনে এখন সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে। ইডকলের উদ্যোগের দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে সোলার সেচপাম্প। এর মধ্যে নওগাঁর সাপাহারে স্থাপন করা হয়েছে ১১.২ কিলোওয়াটের একটি সেচপাম্প, যা থেকে প্রতিদিন প্রায় আড়াই লাখ লিটার পানি সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে। ইডকলের আর একটি সেচপাম্প স্থাপন করা হচ্ছে যশোরের বানিয়ালিতে। এর মাধ্যমে সাড়ে ২২ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেয়া সম্ভব হবে। ইডকলের গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, এসব সেচপাম্প প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সেচ বাবদ খরচ হওয়া বছরে ৮ হাজার লিটার ডিজেল সাশ্রয় হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌরবিদ্যুতের জন্য বাংলাদেশ খুবই সম্ভাবনাময় একটি দেশ। কারণ এখানে বছরে তিন শ’ দিনেরও বেশি রোদ থাকে। দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভিত্তিতে সৌরবিদ্যুত নিয়ে কাজ করছে। ইনস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (ইডকল) নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ সেক্টরে বিশ্বব্যাংক সামগ্রিক অর্থায়ন করছে। সরকারী মালিকানার এই প্রতিষ্ঠান সারাদেশে সৌরবিদ্যুত প্রসারের জন্য অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে আসছে। ১৫ অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণের আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখের বেশি বাড়িতে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।ফলে গ্রামীণ জনপদে প্রায় এক কোটি লোক এখন সৌরবিদ্যুতের সুবিধা ভোগকরছে।সৌরবিদ্যুত ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করাহলে উৎপাদন দ্বিগুণ হতেপারে।তবে দেশে সৌরবিদ্যুতের জনপ্রিয়তা বাড়লেও এরদাম এখনও মানুষেরনাগালের বাইরে।গতকয়েক বছরে কিছুটা কমলেও এখনও তা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনা সম্ভব হয়নি।ডাউন পেমেন্ট বা কিস্তি সুবিধার মাধ্যমে সৌরবিদ্যুত ব্যবহারে উৎসাহিত করাহচ্ছে।এখন পর্যন্তসোলার প্যানেলের সবই বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে।অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে সৌরবিদ্যুতের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে।এখন বিভিন্ন কাজে এটিকে ব্যবহারের চিন্তভাবনা চলছে।