Desh 21
internet advertising
Sunday, June 16, 2013
লাভজনক আবাদ আঙুর চাষ
জয়পুরহাট জেলা শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে আক্কেলপুর উপজেলার জামালগঞ্জ বাজারের বাসিন্দা রুহুল ইসলাম ঢাকার একটি পাঁচতারা হোটেলের প্রধান প্রকৌশলী। ৪ বছর আগে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া প্রদেশের মিলডোয়ায় এক আঙুর খামার মালিকের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। জয়পুরহাট জেলার ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া ও মাটির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জেনে অস্ট্রেলিয়ার সেই খামারির পরামর্শে ২০০৯ সালে বীজহীন দুই জাতের এক হাজার আঙুরের চারা অস্ট্রেলিয়া থেকে আনান। এই চারার মধ্যে মেনিনডি ও ক্রিমসন সিডলেস জাত রয়েছে। তিনি তার ৬ বিঘা জমির উপরি ভাগের মাটি কেটে তুলে ফেলে ২ ফুট বালু ও মুরগির বিষ্ঠা মিশিয়ে আঙুর চাষের উপযোগী করে জমি তৈরি করেন। বিদেশ থেকে আনা ওই চারাগুলো থেকে তিনি আরও ২২৫টি চারা তৈরি করে মোট এক হাজার দুইশ' চারা তার জমিতে লাগান। আরসিসি খুঁটি ও জিআই তার দিয়ে তৈরি করেন জাংলা। অস্ট্রেলিয়ার ওই খামারির পরামর্শে তিনি তার আঙুরের বাগান পরিচর্যা করতে থাকেন। বাগান পরিচর্যার জন্য সার্বক্ষণিক ৬ জন কাজ করছে। রোগবালাই তেমন না থাকলেও পাখির হাত থেকে রক্ষার জন্য পলিথিনের ব্যাগ দিয়ে আঙুরের থোকা ঢেকে দিতে হয়। ১ বছর ৮ মাস পর রুহুল ইসলামের এই বিশাল বাগানের ৫শ' গাছে এখন থোকা থোকা মিষ্টি আঙুর ঝুলছে। ইতিমধ্যে ওই বাগান থেকে আঙুর বিক্রিও শুরু হয়েছে। প্রতি থোকায় ১৫-৩৫টি আঙুর ধরেছে, যার ওজন ১০০ থেকে ৩০০ গ্রাম। ইতিমধ্যে প্রতি কেজি আঙুর ২৬০ টাকা দরে বিক্রি করে বাণিজ্যিকভাবে আঙুরের বিক্রি শুরু করেছেন রুহুল ইসলাম। বাগানে লাগানো আঙুর গাছগুলোতে বছরে দু'বার আঙুর ধরবে। এই আঙুর বিদেশি আঙুরের মতোই মিষ্টি ও সুস্বাদু। জমি বাদে তাদের এই বাগান তৈরি করতে এ পর্যন্ত ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তারা এই গাছ থেকে ১০ হাজার চারা তৈরি করেছেন। এ বছর আঙুর ও চারা বিক্রি করে এক কোটি টাকা আয় করবেন বলে প্রকৌশলী রুহুল ইসলামের ভাই বাগান তত্ত্বাবধায়ক জিল্লুর রহমান আশা করছেন। জয়পুরহাট জেলা কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, আমরা প্রায়ই রুহুল ইসলামের আঙুরের বাগানে যাই এবং তাদের পরামর্শ দিয়ে থাকি। আঙুরগুলো খুবই মিষ্টি ও সুস্বাদুু। জয়পুরহাটের মাটিতে আঙুর চাষ লাভজনক হবে। জয়পুরহাটে রুহুল ইসলামের আঙুর চাষের পর এই লাভজনক আবাদের বিষয়ে আরও অনেকে উৎসাহিত হয়ে উঠছেন। এই লাভজনক আবাদ সম্প্রসারিত হলে অর্থনৈতিকভাবে এ অঞ্চলে একটি বিপল্গব ঘটবে। আঙুর চাষের এলাকা সম্প্রসারিত হলে একদিকে দেশের আঙুরের চাহিদা অনেকটা মিটবে এবং অন্যদিকে বিদেশ থেকে আঙুর আনার প্রবণতা কমে যাবে। বাঁচবে বৈদেশিক মুদ্রা। আঙুর আসবে সাধারণ মানুষের নাগালে।
No comments:
Post a Comment
Newer Post
Older Post
Home
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
internet advertising
No comments:
Post a Comment