বগুড়ায় আরডিএ'র উৎপাদিত বায়োগ্যাস প্রযুক্তি পাল্টে দিতে পারে গ্রামবাংলার চিত্র
মানুষ ও গবাদী পশুর মলমূত্র কাজে লাগিয়ে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়া বায়োগ্যাস উৎপাদন করে গ্রাম বাংলার চিত্র পাল্টে দিতে শুরু করেছে। বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে উৎপাদিত গ্যাস প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তর করে বাড়ি ঘরের চুলায় রান্না বান্না করা ছাড়াও সিলিন্ডারে বোতলবন্দি করা হয়েছে। সিএনজি স্টেশন বসানোর কাজও শেষ হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে মোটর যানে গ্যাস দিতে সক্ষম হবে আরডিএ, বগুড়া। মানুষের জীবন জীবিকা তথা আর্থ সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন, জ্বালানি-চাহিদা মেটাতে কমিউনিটি বায়োগ্যাসের বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়া ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আব্দুল মতিন, তিনি বলেন, বায়োগ্যাস উৎপাদন করে বাণিজ্যিক পর্যায়ে চলে যেতে সক্ষম হয়েছে আরডিএ, বগুড়া। শুধু গ্যাস উৎপাদনই নয়, বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে এই প্লান্ট। বিপুল জনসংখ্যার প্রয়োজন মেটাতে বর্তমানে বার্ষিক প্রায় ৪ কোটি টন জৈব জ্বালানি চাহিদার বিপরীতে প্রাকৃতিক উৎসগুলির পক্ষে জ্বালানি সরবরাহ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে গরু-মহিষের সংখ্যা ২২ বিলিয়ন। দৈনিক গড়ে ১০ কেজি হিসেবে গরু/মহিষ থেকে গোবর উৎপাদন হয় ২২০ মিলিয়ন কেজি। প্রতি কেজি গোবর থেকে ০.০৩৬ ঘন লিটার হিসেবে বছরে প্রায় ৭.৯২ মিলিয়ন ঘন লিটার বায়োগ্যাস পাওয়া যেতে পারে। আরডিএ'র ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আরও বলেন হাঁস-মুরগী ছাগল-ভেড়ার বিষ্টা, আবর্জনা, কচুরিপানা থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বায়োগ্যাস পাওয়া সম্ভব। নিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এনে দিতে পারে কাম্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশ বান্ধব বাংলাদেশ। এছাড়া গ্রীণ হাউজ গ্যাস ও জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি হ্রাস করলেও বায়োগ্যাস প্রযুক্তি বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়া গ্রামীণ জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে একটি সামাজিক আন্দোলন সূচনার লক্ষ্যে কমিউনিটি বায়োগ্যাস প্রকল্প নামে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকারের অর্থায়নে ২০০৯-২০১৪ মেয়াদে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং ইতোপূর্বে বাস্তবায়িত গবেষণার সফল অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে সারা বাংলাদেশে ১১২টি এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩৩টি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। কেবলমাত্র উত্তরাঞ্চলের বাস্তবায়িত প্রতিটি উপ প্রকল্পের জন্য বর্গা প্রথায় গরু পালনের লক্ষ্যে ৩.০০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সর্বমোট ১৩,৪৪০ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। গ্রাম বাংলার চিত্র পাল্টে দিতে আর ডিএ, বগুড়ার মহাপরিচালক ও অনুষদ সদস্যবৃন্দকে অভিনন্দন আমরা জানাই। আরডিএ গ্রাম বাংলার মানুষের হৃদয় ও প্রাণকে স্পর্শ করেছে। পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়ার সাফল্য, সম্মান আর অগ্রগতির তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
No comments:
Post a Comment